শনিবার , মে ২৫ ২০১৯
শিরোনাম :
Home / সম্পাদকীয় / ‘প্রশ্ন’ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ রাবির চারুকলা

‘প্রশ্ন’ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ রাবির চারুকলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্নপত্রের একাধিক প্রশ্নে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই। প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই আবার এ প্রশ্নপত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিচারও দাবি করেছেন।

বুধবার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত চারকলা অনুষদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ৭৬ নম্বর ক্রমিকের প্রশ্নে বলা হয়- ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থের নাম কি?’ নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নটির উত্তরের অপশনে দেয়া হয়েছে – ক) পবিত্র কুরআন শরীফ, খ) পবিত্র বাইবেল, গ) পবিত্র ইঞ্জিল, ঘ) গীতা।

একই ৪১ নম্বর ক্রমিকের প্রশ্নে বলা হয়েছে- ‘মুসলমান রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা সশস্ত্র হামলা চালায় কত তারিখে?’

পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর হল থেকেই শিক্ষার্থীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নের ছবি দিয়ে বলছেন, এই প্রশ্ন সুস্পষ্টভাবে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রসূত এবং চারুকলা বিষয়ের সাথে কোনভাবেই সম্পৃক্ত নয়। কারণ, নির্যাতিত রোহিঙ্গা জাতির সবাই মানুষ, তাদের নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে উল্লেখ করে এবং হামলাকারী হিসেবে অন্য একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দাঁড় করানো হয়েছে। যা সাম্প্রদায়িকতা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সাংবাদিক তৈমুর আলম তুষার ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘রাবি কর্তৃপক্ষের কাছে ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ম হিসেবে ঘোষণা দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। যারা কুরআনকে সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ মানতে রাজি নন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অযোগ্য ঘোষণা করা হোক।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান রোমেল লিখেছেন, ‘সাম্প্রদায়িকতার এই বিষবাষ্প চারুকলার মত জায়গা থেকে যখন ছড়ায়, তখন সত্যিই মহাচিন্তার বিষয়। এধরনের প্রশ্ন যে করেছে, সে আর যাই হোক, কোন সুশিক্ষক হতে পারে না: আর শিল্পীতো অনেক দূরের বিষয়। ঐ চারুকলা অনুষদের একজন লজ্জিত সাবেক ছাত্র হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিচার দাবি করি’ (বানান ও ভাষা পরিমার্জিত)।

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘দুটি প্রশ্ন নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সবাইকে ওই দুটি প্রশ্নের নম্বর দিয়ে দেয়া হবে।’

এমন প্রশ্নে সাম্প্রদায়িকতা প্রকাশ পায় কিনা এমন প্রশ্নে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দায়ীদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা বিভাগীয়ভাবে কোনো তদন্ত কমিটি করেনি। এবছর এই অনুষদটির ১২০টি আসনের বিপরীতে ৪ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *